কোচিং ও প্রাইভেট শিক্ষার ব্যবসা জমজমাট : শিক্ষার্থীরা জিম্মি


কোচিং ও প্রাইভেট শিক্ষার ব্যবসা জমজমাট : শিক্ষার্থীরা জিম্মি

ডেস্ক রিপোর্ট
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে বিভিন্ন স্থানে কোচিং ও প্রাইভেট শিক্ষা অব্যাহত রয়েছে। একশ্রেণীর অসাধু শিক্ষক শিক্ষাদানকে বাণিজ্যে পরিণত করেছেন। তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিম্মি করে প্রাইভেট ও কোচিং সেন্টারের ব্যবসা জমজমাট করে তুলেছেন। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেও প্রয়োজনীয় শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিস্তারিত খবর পাঠিয়েছেন প্রতিনিধিরা :
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কলাপাড়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিম্মি করে প্রায় অর্ধশত কোচিং সেন্টারে চলছে স্কুল-কলেজ শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য। সরকার কোচিং বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও বন্ধ হয়নি কোচিংবাণিজ্য। এমনকি এসব কোচিং সেন্টার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদেরও নেই কোনো ভূমিকা। এতে করে অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, এসব কোচিং সেন্টার বন্ধ করে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক। জানা গেছে, গত ২০ জুন সরকার এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং করানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই নিয়মের লঙ্ঘন হলে শিক্ষকের এমপিও বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এই বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কলাপাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রায় অর্ধশত কোচিং সেন্টারে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের শত শত শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে দেখা গেছে। পৌর শহরের কুমারপট্টি সড়কের একটি তিনতলা ভবন ভাড়া নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে কলাপাড়া কোচিং সেন্টার। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এটি পরিণত হয় একটি নৈশ্য বিদ্যালয়ে। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত এখানে কোচিং চলে। এ কোচিং সেন্টারের দায়িত্বে রয়েছেন খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক মো. শামছুল আলম ও একই বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক সুভাস চন্দ্র রায়। অভিযোগ রয়েছে, এখানে কোচিং না করালে তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় ন্যায্য নম্বর দেয়া হয় না। একইভাবে পৌর শহরের এতিমখানা, রহমতপুর, পাওয়ার হাউস, মাদরাসা সড়ক ও নাচনাপাড়া সড়কে বাসা ভাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে অ্যাডভান্স, স্টার ফেয়ার, ব্রাইট স্টার, আন্ধারমানিকসহ প্রায় অর্ধশত কোচিং সেন্টার।
এছাড়া পৌর শহরের মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ডিগ্রি কলেজ, কলাপাড়া মহিলা কলেজ, খেপুপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সোবাহান শিকদার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষককে নিজ বাসায় ও কোচিং সেন্টারে কোচিং করাতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে বেশি এগিয়ে রয়েছেন ইংরেজি ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকরা।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কোচিং বন্ধে নীতিমালা বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার চন্দ্র হাওলাদার আমার দেশ-কে বলেন, ‘সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করলেও আমি এখন পর্যন্ত লিখিত নির্দেশ পাইনি। তবু খোঁজ নিয়ে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
আটোয়ারী (পঞ্চগড়) : পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে একশ্রেণীর সুবিধাভোগী শিক্ষক সরকারের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে কোচিং ও প্রাইভেট ব্যবসা জমজমাটভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, বিএ অনার্সসহ বিভিন্ন ক্লাসের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত প্রাইভেট পড়তে বাধ্য হচ্ছে। উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নিজ নিজ স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। কোনো কোনো শিক্ষক নিজ বাড়িতে, আবার কেউ কেউ নিজ প্রতিষ্ঠানে পড়ান। এ উপজেলায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের প্রায় দু’শতাধিক শিক্ষক প্রাইভেট ব্যবসায় জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বেশিরভাগ শিক্ষকই প্রাইভেট ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। কেউ কেউ জমি কিনে পাকা বাড়িঘর নির্মাণ আবার কারও বিরুদ্ধে গাড়ি-বাড়ি কিনে পুঁজিপতি বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) : উল্লাপাড়া মোমেনা আলী বিজ্ঞান স্কুলে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে চলছে কোচিং বাণিজ্য। বিদ্যালয়ের মাসিক বেতন ৬৮০ টাকাসহ স্কুলের ১১শ শিক্ষার্থীদের দু’শ টাকা হারে কোচিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনুপস্থিতির জন্য প্রতিদিন আরো ৫০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। কোন অভিভাবক কোচিং বিষয়ে অভিযোগ করলে তাকে স্কুলে ডেকে এনে তার সন্তানকে ছাড়পত্র দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নানা অজুহাত দেখিয়ে অভিভাবকদের জিম্মি করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এদিকে অভিভাবকরা নীতিমালা মেনে চলার কথা বলতে গিয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের কাছে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সমপ্রতি সরকার লেখাপড়ায় অভিভাবকদের ওপর কোচিংয়ের বাড়তি ব্যয় কমাতে ও বিদ্যালয়ে শিক্ষাদান পদ্ধতি থেকে অনৈতিক কোচিং বাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা-২০১২ জারি করেছে যা স্কুলে এখনও তার প্রভাব পড়েনি।
শিক্ষকদের ইন্ধনে কোচিং বাণিজ্যের পক্ষে শিক্ষার্থীদের মিছিল
পাবনা : শিক্ষকদের ইন্ধনে কোচিং বাণিজ্যের পক্ষে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পাবনা জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা। গত সোমবার সকালে মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা এ দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি পেশ করে। এদিকে ক্লাস বাদ দিয়ে ছাত্রদের দিয়ে এভাবে রাস্তায় মিছিলে নামানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অভিভাবকরা।
সম্প্রতি সরকার কোচিং বাণিজ্য নিয়ে নীতিমালা প্রণয়ন করায় সারাদেশের মতো পাবনার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। এই কোচিং বাণিজ্যের মন্দাভাব কাটাতে পাবনা জিলা স্কুলের শিক্ষকরা এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। তারা গত সোমবার সকালে স্কুলটির শিক্ষার্থীদের দিয়ে শহরে মিছিল করায়। সকাল ১১টার দিকে স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে তারা পাবনা জেলা প্রশাসক মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে স্মারকলিপি দেয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মিছিলে অংশ নেয়া একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে মিছিলে অংশ নিতে বাধ্য করেছেন। আগামীতে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, শিক্ষকরা তাদের ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়ার ভয় দেখানোয় তারা বাধ্য হয়ে মিছিলে অংশ নিয়েছে। ছাত্রদের দিয়ে এভাবে রাস্তায় মিছিল করানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে পাবনা জিলা স্কুলের এক শিক্ষার্থীর বাবা আবদুল মান্নান বলেন, শিক্ষকদের ব্যবসায়িক স্বার্থে ছাত্রদের দিয়ে এভাবে রাস্তায় মিছিল করানো কোনো শিক্ষকের কাজ হতে পারে না। এ ব্যাপারে পাবনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক লুত্ফর রহমান জানান, বর্তমান সরকার কোচিং নিয়ে যে নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, সেই নীতিমালাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। বর্তমানে কোচিং বন্ধ রাখায় শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে মিছিল করেছে। এর সঙ্গে আমাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এ ব্যাপারে পাবনা জিলা প্রশাসক মুস্তাফিজুর রহমান বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কোচিংয়ের পক্ষে সকালে শিক্ষার্থীরা মিছিল শেষে আমার কাছে এসে একটি স্মারকলিপি দিয়েছে। তবে এর সঙ্গে শিক্ষকদের কোনো ধরনের ইন্ধন আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে শিক্ষার্থীরা যেভাবে কোচিংয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, এতে শিক্ষকদের ইন্ধন থাকতে পারে বলে আমার ধারণা। read more
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s